সমুদ্রপথ ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী আকরিক লোহা আমদানি ২০২৪ সালে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে বিশ্বের শীর্ষ আকরিক লোহা আমদানিকারক দেশ চীন। কমোডিটি অ্যানালিস্ট কেপলারের সংকলিত ডাটা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।
কেপলার জানায়, গত বছর বিশ্বব্যাপী আকরিক লোহা আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় সমুদ্রপথ ব্যবহার করে মোট আমদানি পৌঁছেছে ১৭০ কোটি ৭০ লাখ টনে, যা ২০২৩ সালের ১৬৪ কোটি ৭০ লাখের তুলনায় ছয় কোটি টন বেশি।
বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, এ ৬ কোটি টনের মধ্যে চীনের আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৯১ লাখ টন। দেশটি ২০২৪ সালে সমুদ্রপথ ব্যবহার করে ১২৭ কোটি ৪০ লাখ টন আকরিক লোহা আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
চীনে নির্মাণ খাতের কার্যক্রম কমে যাওয়াসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে বেশ কয়েকদিন ধরে ইস্পাত উৎপাদন ও চাহিদা নিম্নমুখী ছিল। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তা সত্ত্বেও আকরিক লোহা আমদানিতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এর একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হতে পারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নিম্নমানের বদলে উচ্চ মানের আকরিক লোহা আমদানি। এছাড়া বছরজুড়ে পণ্যটি নিম্নমুখী মূল্য প্রবণতা বজায় রেখেছিল। তাই মজুদ পূরণে দেশটি আমদানি বাড়িয়েছে।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম ১১ মাসে চীনের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯২ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার টন, যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
শীতকালে কিছু কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখা ও মৌসুমি চাহিদা কমে যাওয়ায় ডিসেম্বরেও ধাতবপণ্যটির উৎপাদন নিম্নমুখী ছিল। তাই ২০২৪ সালে মোট উৎপাদন ২০২৩ সালের তুলনায় কমে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
এদিকে কেপলার আরো জানায়, ২০২৪ সালে ইউরোপের দেশগুলোর আকারিক লোহা আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টন। ২০২৩ সালে এ পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৮৪ লাখ টন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি কমেছে যুক্তরাজ্যের।
দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ জাপান ২০২৪ সালে ৮ কোটি ৮১ লাখ ৯০ হাজার টন আকরিক লোহা আমদানি করেছে, যা ২০২৩ সালের ৯ কোটি ৮৭ লাখ ১০ হাজার টনের তুলনায় কম।
গত বছরের শুরুতেই ৩ জানুয়ারি সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে বাণিজ্য হওয়া আকরিক লোহার সর্বোচ্চ দাম ছিল টনপ্রতি ১৪৩ ডলার ৬০ সেন্ট। এরপর তা কমে ১০ সেপ্টেম্বর টনে ৯১ ডলার ১০ সেন্টে নেমে আসে। যদিও বছরের শেষে তা আবার বেড়ে টনপ্রতি ১০৩ ডলার ৬১ সেন্টে পৌঁছে।